Breaking News

কৌশলের খেলায় সরকারের কাছে হেরে যাচ্ছে হেফাজত!

হেফাজতকে দমন করার জন্য সরকার ভিন্নমুখী কৌশল নিয়েছিল। আর এই কৌশলের খেলায় হেফাজত সরকারের কাছে এখন পর্যন্তও পরাজিত হয়েছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারক মনে করছেন যে, এখনো খেলা শেষ হয়ে যায়নি।

হেফাজত পাল্টা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সতর্ক থাকতে হবে সরকারকে। সরকার হেফাজতের ব্যাপারে প্রথম কৌশল নিয়েছিল তাদের সাথে একটা সমঝোতার নীতি গ্রহণ করে। তাদেরকে বলেছিল যে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য নিয়ে তারা যেন বাড়াবাড়ি না করে।

এজন্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা হেফাজতের সাথে বৈঠকও করেছিল। দ্বিতীয় দফায়ও সরকার সমঝোতার চেষ্টা করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর নিয়ে তারা যেন কোন উস্কানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সেজন্য তাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছিল।

হেফাজতও সেই সময়ে কথা রেখেছিল যে নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে তারা কোন অশান্তি তৈরি করবে না কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। এর পর থেকে সরকার হেফাজতের কৌশলেই হেফাজতকে পরাস্ত করার পরিকল্পনা নেয়। সেই পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত সফল বাস্তবায়ন হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজতকে ঘায়েল করার জন্য সরকার ত্রিমুখী কৌশল গ্রহণ করছে। প্রথমত, হেফাজতকে বিভক্ত করা। যেন হেফাজতের মধ্যে পরস্পর অবিশ্বাস, সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে তারা যেন সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করতে না পারে।

দ্বিতীয়ত, হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের ধীরে ধীরে গ্রেফতার করা। প্রথমদিকে হেফাজতের যারা শীর্ষ পদে নাই তাদেরকে গ্রেফতার করা অর্থাৎ যারা রাস্তায় তাণ্ডব করতে পারবে, বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক অশান্তি তৈরি করতে পারবে তাদেরকে

গ্রেফতার করে শীর্ষ নেতাদেরকে দুর্বল করা। পরে শীর্ষ নেতাদেরকে গ্রেফতার করা। তাহলে শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের কোন প্রতিবাদ হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় এখন মামুনুল গ্রেফতার হয়েছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছেন।

তৃতীয়ত, হেফাজতের বিরুদ্ধে একটি জনমত তৈরি করা এবং হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পক্ষে একটি জাতীয় দাবি তৈরি করা। যেভাবে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করেছিল।

সেই ক্ষেত্রেও সরকার আগে সফল হয়েছে। ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী ছাড়া প্রায় সর্বস্তরের মানুষ এখন হেফাজতের এইসব দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতাদের গ্রেফতারের দাবি করছেন। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি ঐক্য হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের বিরুদ্ধে হেফাজতের কৌশল ছিল সরকারকে চাপে রাখা, সরকারকে হুমকি দেওয়া এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য একটা উস্কানি দেওয়া। কিন্তু হেফাজতের এই কৌশল কাজে দেয়নি।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গত তিন বছরে অনেক কিছু পেয়েছে। বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখনো তাদের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে মনোযোগী হচ্ছে। এরকম বাস্তবতা হেফাজতের নেতাদের কথাই শুনছেন না মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

তাছাড়া এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যখন অভাব-অনটনে দিন কাটায় তখন হেফাজতের নেতারা এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা আরাম-আয়েসে দিন কাটাচ্ছে,

একাধিক গাড়ি বাড়ি এবং আর্থিক তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়গুলো সূক্ষ্মভাবে প্রচারিত হওয়ার ফলে হেফাজতের নেতাদের উপর আগে যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আস্থা ছিল সেই আস্থাটাও নষ্ট হয়ে গেছে।

কাজেই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হেফাজত যে কৌশল নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চেয়েছিল সেই কৌশলটি ব্যর্থ হয়েছে। হেফাজতের একমাত্র কৌশল ছিল তাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের শক্তি দিয়ে সরকারকে ভয় দেখানো।

কিন্তু সেই শক্তিকে আগে দুর্বল করে সরকার এখন সাঁড়াশি আক্রমণ করছে এবং হেফাজতের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা এখন গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছে। আর এখানেই এখন পর্যন্ত সরকারের কৌশল বিজয়ী হয়েছে।

তবে হেফাজতের নেতারা মনে করছেন যে, লকডাউন এবং রোজার কারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কোন কঠোর অবস্থানে যেতে পারছেন না। কিন্তু ঈদের পরেই তারা সরকারবিরোধী একটি বড় ধরনের আন্দোলনের চেষ্টা করবে। সেটা সরকার কিভাবে দমন করা সেটাই দেখার বিষয়।

About Nasim

Check Also

আবারও মার্কিন ঘাঁটি আইন আল আসাদে রকেট হামলা

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-আনবার প্রদেশে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে আবারও রকেট হামলা হয়েছে। ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী …