সীমা অতিক্রম করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম নামের উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি ও শান্তি বিনষ্টে বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে।

জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। গতকাল সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত নিয়মিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।

২০ এমপি-প্রতিমন্ত্রীসহ অর্ধশত আওয়ামী কেন্দ্রীয় নেতা আক্রান্ত!

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন সব বয়সী-শ্রেণির মানুষ। এ ভাইরাস বিশ্বের অনেক দেশের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গকে যেমন কাবু করেছে তেমনি হানা দিয়েছে বাংলাদেশের অনেক এমপি-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের শরীরেও।

গত বছর থেকে আজ পর্যন্ত দেড় শতাধিক এমপি-মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রীসহ চার-পাঁচ জন সংসদ সদস্যসহ ৬ সহস্রাধিক দলীয় নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন করোনায়। বর্তমানে একজন

প্রতিমন্ত্রীসহ ১৮ জন এমপি করোনাভাইরাসে ভুগছেন। তাদের কেউ হাসপাতালে, কেউ বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আবার কেউ আইসিসিইউতে রয়েছেন। শুধু এমপি-প্রতিমন্ত্রীই নন, অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্যরা বলেছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দুর্যোগকালে তাদের ঘরে বসে থাকার সুযোগ ছিল না। তাই জনগণের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে তাদের বেশিসংখ্যক সহকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার শুরু থেকেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের চলমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অধিকাংশ এমপি ও বিভিন্ন সারির নেতা।

সংসদ সদস্যের মধ্যে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ নাসিম, নওগাঁ-৬ আসনের ইসরাফিল আলম, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ কায়েস, সিলেটের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজী মকবুলসহ ৬ শতাধিক নেতা-কর্মী করোনায় মারা গেছেন।

গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরণ ও তার বড় ছেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জিহান আল রশীদ। গতকাল সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এমপির ছেলে জিহান আল রশীদ। জিহান বলেন, ‘বাবার কভিড রিপোর্ট পজিটিভ এলেও তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি।’

মঙ্গলবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল। অসীম কুমার উকিলের স্ত্রী যুব মহিলা লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মঙ্গলবার করোনা শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

৪ এপ্রিল করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার খবর পান আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৫ আসনের এমপি মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি ওইদিন সংসদে যোগ দেওয়ার উদ্দেশে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে নমুনা দেন। তার করোনা পজিটিভ আসে। তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

এর আগে রবিবার দ্বিতীয়বারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন টাঙ্গাইল-২ আসনের এমপি ভানভীর হাসান ছোট মনির। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন বুথে নমুনা দিয়েছিলেন। রবিবার তার ফল পজিটিভ আসে। এর আগে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বরও তিনি করোনায় আক্রান্ত হন।

দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সিরাজগঞ্জ-১ (সদরের একাংশ ও কাজিপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়। তানভীর শাকিলের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ মিন্টু ৪ এপ্রিল রাতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত দুই দিন এমপি জয় তার নির্বাচনী আসন কাজিপুরের বিভিন্ন এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে শনিবার ঢাকা আসেন। রবিবার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। সন্ধ্যায় তিনি পজিটিভ শনাক্ত হন।

করোনা নেগেটিভ এলেও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। ১৫ মার্চ আবদুল মতিন খসরু সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১৬ মার্চ সকালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ওইদিনই তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। ২৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে আবদুল মতিন খসরুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। ৩ এপ্রিল তাকে সিএমএইচের আইসিইউ থেকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হলেও ৬ এপ্রিল রাতে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়।

ফেনী-২ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সংসদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিয়মিত করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে দিই জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বুথে।

৪ এপ্রিল পজিটিভ হওয়ার খবর পাই।’ করোনার শুরু থেকেই ব্যাপকভাবে মাঠে থেকে নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য সহায়তা দিয়ে আসছিলেন তিনি। ৬ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি তানভীর ইমাম। তিনি নির্বাচনী এলাকায় নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজধানীতে ফেরেন। ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদ ভবনের বুথে নমুনা দেন।

সন্ধ্যায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে। হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ গাজী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ৩ এপ্রিল রাতে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। ২৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হন হবিগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. আবদুল মজিদ খান। করোনা পজিটিভ হওয়ার পরই তিনি ঢাকায় চিকিৎসার জন্য আসেন।

কক্সবাজারের চার সংসদ সদস্যের তিনজনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তারা হলেন কক্সবাজার-১ আসনের (চকরিয়া-পেকুয়া) মো. জাফর আলম, কক্সবাজার-২ আসনের আশেক উল্লাহ রফিক ও কক্সবাজার-৪ আসনের শাহীন আকতার।

২ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা দেন এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। ওইদিনই তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। ৩০ মার্চ নমুনা দেন এমপি শাহীন আকতার। পর দিন তার ফল পজিটিভ আসে। ২ এপ্রিল এমপি জাফর আলমের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তিনি নমুনা দিয়েছিলেন।

৩০ মার্চ গাজীপুর-৪ আসনের এমপি সিমিন হোসেন রিমি ও তার দুই ছেলে সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হন। তাদের রাজধানীর ইউনাইডেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩১ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পান পাবনা-২ আসনের এমপি আহমেদ ফিরোজ কবির। ২৩ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম। তিনি রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

৩ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হন সংরক্ষিত (নারী) আসনের এমপি খোদেজা নাসরিন আক্তার। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদানের আগে ২ এপ্রিল নমুনা দেন তিনি। ৩ এপ্রিল সকালে রিপোর্টে পজিটিভ আসে। ওইদিন রাত ১০টায় রাজধানীর পান্থপথে হেলথ

অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সংরক্ষিত (নারী) আসনের এমপি শিরিন আহমেদ, ঢাকা-২০ আসনের এমপি বেনজির আহমেদ, রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

শুধু আওয়ামী লীগের এমপিই নন, জাতীয় পার্টির এমপিরাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২০ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি বিরোধীদলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও তার স্ত্রী মাসকুরা হোসাইন দীনা। ১৬ মার্চ সুনামগঞ্জে নমুনা দিয়েছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে আরও রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, সহসভাপতি ডা. দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার কবির, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রফিকুল ইসলাম।

জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম করোনা আক্রান্ত হন নওগাঁ-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার। দেশে করোনা সংক্রমণের ৫২ দিনের মাথায় ৩০ এপ্রিল তার শরীরে ভাইরাস ধরা পড়ে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রথম করোনা আক্রান্ত হন।

About Nasim

Check Also

মামুনুলকে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি আসছে !

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। অবি;লম্বে তাকে মুক্তি না দিলে …